Date & Time -  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড্রেন থেকে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্কঃ-  পুলিশের সন্দেহ হত্যাকাণ্ড……. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত বৃহস্পতিবার সকালে ড্রেন থেকে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নবাব আবদুল লতিফ হলের ডাইনিংয়ের পাশের ড্রেনে মোতালেব হোসেন ওরফে লিপুর (২১) লাশটি পাওয়া যায়। তাঁকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে বলেই ধারণা পুলিশের। মোতালেব হোসেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মোতালেব হোসেন নবাব আবদুল লতিফ হলের ২৫৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সাকিমপুর গ্রামে। লাশ পাওয়ার ঘটনায় পুলিশ মোতালেবের এক রুমমেট ও আরেকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। হলের দুজন প্রহরীকেও প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোতালেবের মাথার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় সেখান থেকে রক্ত ঝরছিল।
হলের ডাইনিংয়ের কর্মচারী রিনা খাতুন বলেন, গতকাল সকালে তিনি ডাইনিং হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। এরপর ডাইনিংয়ের পাশে সবজি কাটার স্থানে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি হলের লোকজনকে জানালে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নবাব আবদুল লতিফ হলের পূর্ব পাশে ডাইনিংয়ের অবস্থান। এর দক্ষিণ পাশে একটু ফাঁকা জায়গায় সবজি কাটা হয়। এর পাশেই ড্রেন। ওই ড্রেনের মধ্যে কাত হয়ে পড়ে ছিল মোতালেবের লাশ।
ময়নাতদন্ত শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এনামুল হক জানিয়েছেন, মাথার পেছনে বড় ধরনের আঘাতের কারণে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুকের দুই পাশে দুটি করে হাড় ভাঙা ছিল। ফুসফুসেও আঘাত ছিল।
এর আগে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পূর্ব) আমীর জাফর বলেন, মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ফলে এটা আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে হত্যাকাণ্ড। সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কেউ হলের ছাদ থেকে পড়ে গেলে এভাবে ড্রেনের মধ্যে পড়ে থাকা সম্ভব নয়। সম্ভবত খুনের পর লাশ ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।
লাশ উদ্ধারের পর মোতালেবের কক্ষ ও ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
মোতালেবের সহপাঠীরা বলেন, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিষয়ে ঝোঁক ছিল তাঁর। কিন্তু পরে সাংবাদিকতা থেকে সরে আসেন। তাঁদের জানামতে, কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না মোতালেবের। তবে বছর খানেক আগে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন মোতালেব। এ জন্য কয়েক মাস জেলও খেটেছিলেন। ওই ঘটনা নিয়ে মোতালেব কিছুটা বিড়ম্বনার মধ্যে ছিলেন।
ভাতিজা নিহত হওয়ার খবর পেয়ে রাজশাহী ছুটে আসেন মোতালেবের চাচা মো. বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আরেকজনের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়েছিল মোতালেব। জেল খেটে বেরিয়ে এসে একটু ঝামেলায় ছিল। ওই লোকজনই নাকি তাকে হুমকি দিত। তবে তাদের আমি চিনি না।’ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বশির উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মতিহার থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ মোতালেবের রুমমেট ও আরেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে গেছে। ওই শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে মোতালেবের নামে নিবন্ধনকৃত সিম কার্ড পাওয়া গেছে।
নবাব আবদুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘হল প্রশাসন থেকে পুলিশকে সহযোগিতা করছি। হলে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। আমরা দেখব সেখান থেকে কোনো ক্লু পাওয়া যায় কি না।’
গত বৃহস্পতিবার  বিকেল পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে মোতালেবের মৃতদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  2370 - জন
 রিপোর্ট »শনিবার, ২২ অক্টোবার , ২০১৬. সময়-১২:৫২ AM | বাংলা- 7 Kartrik 1423
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

5 + 2 =